রবির সৎ চরিত্র

একটি ছোট সুন্দর গ্রামে রবি নামে একটি ছেলে থাকত। রবির পরিবার খুব ধনী ছিল না। তার বাবা একজন দিনমজুর এবং মা বাড়ির কাজ করতেন। সংসারে অনেক অভাব ছিল, কিন্তু রবির বাবা-মা সব সময় তাকে একটি জিনিস শিখিয়েছিলেন—সত্য কথা বলা এবং সৎ থাকা।
রবি গ্রামের স্কুলে পড়ত। সে পড়াশোনায় খুব ভালো না হলেও খুব ভদ্র ও সৎ ছিল। শিক্ষকরা তাকে খুব ভালোবাসতেন, কারণ সে কখনও মিথ্যা বলত না।
মানিব্যাগ খুঁজে পাওয়া
একদিন বিকেলে স্কুল ছুটি হওয়ার পর রবি বাড়ির দিকে হাঁটছিল। রাস্তার পাশে একটি বড় আমগাছ ছিল। সেই গাছের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় সে হঠাৎ মাটিতে পড়ে থাকা একটি কালো রঙের মানিব্যাগ দেখতে পেল।
রবি মানিব্যাগটি তুলে নিল। খুলে দেখে তার চোখ বড় হয়ে গেল। ভিতরে অনেক টাকা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ছিল।
সে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তার মনে নানা চিন্তা আসতে লাগল।
সে ভাবল,
“এই টাকা দিয়ে তো আমি নতুন বই কিনতে পারি… মাকে সাহায্য করতে পারি… এমনকি নতুন জামাও কিনতে পারি।”
কিন্তু তখনই তার বাবার কথা মনে পড়ল। তার বাবা সব সময় বলতেন—
“অন্যের জিনিস কখনও নিজের করে নিও না। সত্যের পথই মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
সঠিক সিদ্ধান্ত
রবি একটু চিন্তা করে ঠিক করল, সে মানিব্যাগটি নিজের কাছে রাখবে না। সে দ্রুত গ্রামের প্রধানের বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করল।
গ্রামের প্রধান ছিলেন একজন সম্মানিত মানুষ। রবি তাকে সব ঘটনা খুলে বলল এবং মানিব্যাগটি তার হাতে দিল।
প্রধান মানিব্যাগটি খুলে দেখলেন এবং ভিতরের কাগজ দেখে বুঝলেন এটি গ্রামের এক বৃদ্ধ মানুষ, হরিদাস কাকার।
তৎক্ষণাৎ একজন লোককে পাঠানো হলো হরিদাস কাকাকে ডাকার জন্য। কিছুক্ষণ পর তিনি সেখানে এসে পৌঁছালেন।
প্রধান তাকে মানিব্যাগটি দেখিয়ে বললেন,
“এটা কি আপনার?”
হরিদাস কাকা মানিব্যাগ দেখে অবাক হয়ে বললেন,
“হ্যাঁ! এটা তো আমারই। আমি আজ বাজারে যাওয়ার পথে কোথাও ফেলে দিয়েছিলাম।”
মানিব্যাগ ফিরে পেয়ে তিনি খুব আনন্দিত হলেন। তিনি রবির দিকে তাকিয়ে বললেন,
“বাবা, তুমি যদি চাইতে তাহলে এই টাকা সহজেই নিজের কাছে রেখে দিতে পারতে। কিন্তু তুমি তা করোনি। তুমি সত্যিই খুব সৎ ছেলে।”
তিনি খুশি হয়ে রবিকে কিছু টাকা পুরস্কার দিতে চাইলেন।
কিন্তু রবি মাথা নেড়ে বলল,
“না কাকা, আমি শুধু আমার কর্তব্য করেছি। অন্যের জিনিস ফিরিয়ে দেওয়াই ঠিক কাজ।”
রবির এই কথা শুনে সেখানে উপস্থিত সবাই খুব অবাক এবং আনন্দিত হল। গ্রামের প্রধান বললেন,
“এই ছেলেটি আমাদের গ্রামের গর্ব। সবাই রবির কাছ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।”সেই দিন থেকে গ্রামের সবাই রবিকে আরও বেশি সম্মান করতে লাগল। শিক্ষকরা স্কুলে তার সততার গল্প বলতেন।
রবি বুঝতে পারল—সত্যের পথে থাকলে মানুষের ভালোবাসা এবং সম্মান পাওয়া যায়।
সততার পুরস্কার
সত্য ও সততা মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ। শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়।
