🕰️সময়ের ফাঁকে আটকে পড়া বন্ধুত্বের গল্প

⏳ যে লিফট নামলে সময় বদলে যায়

শহরের সবচেয়ে পুরোনো মলের নাম রায় মেগামল। ঝকঝকে আলো, এসি, ফুডকোর্ট—সব আছে।
কিন্তু একটা জিনিস নেই।

👉 বেসমেন্ট–৩

লিফটের বোতামে B1, B2 লেখা আছে।
কিন্তু খুব ভালো করে তাকালে দেখা যায়—হালকা ঘষা দেওয়া একটা বোতাম, লেখা B3
কেউ কখনও চাপেনি। বা চাপলেও… ফিরে এসে বলেনি।

🔘 ভুল বোতাম

আর্য আর তার বন্ধু নীল—দু’জনেই কলেজে পড়ে, অ্যাডভেঞ্চার মানে ইউটিউব না হলে ঘুম আসে না।

একদিন মলে ঘুরতে ঘুরতে নীল হঠাৎ বলে,
— “দোস্ত, B3 বোতামটা দেখেছিস?”

আর্য হেসে বলে,
— “আরে, মিথ।”

নীল কোনো কথা না বলে বোতামটা চেপে দেয়।

ডিং।

লিফট নামতে থাকে।
১…২…৩…

কিন্তু থামে না।

🕰️ অন্য সময়ের শহর

লিফট খুলতেই দু’জন চুপ।

সামনে মল নেই।
রাস্তায় পুরোনো বাস, হাতে ঘড়ির চেইন, দোকানে লেখা—১৯৯৯ সালের অফার

আর্য ফিসফিস করে বলে,
— “ভাই… এটা কি কোনো থিম পার্ক?”

ঠিক তখন একজন লোক এগিয়ে আসে।
চেহারাটা… অবিকল নীলের মতো।

কিন্তু বয়স বেশি।

লোকটা বলে,
— “অবশেষে তোরা এলি।”

🧩 সত্যটা ভয়ংকর

লোকটা জানায়—
B3 আসলে কোনো জায়গা নয়।
এটা সময়ের ফাঁক

যে লিফটে নামবে, সে নিজের ভবিষ্যৎ বা অতীতে ঢুকে পড়বে—
কিন্তু ফিরতে পারবে শুধু একটা শর্তে

— “একজন যাবে, একজন থাকবে।”

নীল হেসে বলে,
— “মানে?”

লোকটা আঙুল তুলে আর্যের দিকে দেখায়।
— “আমি ছিলাম তোর বন্ধু।”

আর্যর মাথা ঘুরে যায়।

🏃‍♂️ দৌড় সময়ের বিরুদ্ধে

চারপাশ বদলাতে থাকে।
দেয়াল গলে যাচ্ছে, ঘড়ির কাঁটা উল্টো ঘুরছে।

লিফট আবার খুলছে—কিন্তু মাত্র ১০ সেকেন্ডের জন্য

নীল আর্যের দিকে তাকিয়ে বলে,
— “যা। গল্পটা তোকে লিখতেই হবে।”

আর্য চিৎকার করে,
— “একসাথে যাব!”

নীল শুধু হাসে।

ডিং।

🏙️ এখনো অপেক্ষা

আর্য ফিরে আসে মলে।
সব স্বাভাবিক।

B3 বোতামটা আর নেই।

কিন্তু আজও মাঝে মাঝে,
রায় মেগামলের লিফটে কেউ শোনে—

ডিং… ৩…

আর আর্য প্রতিদিন যায় সেখানে।
কারণ কোনো কোনো অ্যাডভেঞ্চার শেষ হয় না।

শুধু অপেক্ষা করে।


পার্ট–২


⏳ যে লিফট নামলে সময় বদলে যায়

ফিরে এসে যে জিনিসটা বদলে গিয়েছিল

আর্য নিশ্চিত ছিল—
সে লিফট থেকে বেরিয়েছিল নিজের সময়েই

মল আগের মতোই।
লোকজন হাঁটছে, দোকান খোলা, ফোনে নেট চলছে।

কিন্তু একটা সমস্যা ছিল।

👉 কেউ আর্যকে চিনতে পারছিল না।

👤 নামহীন মানুষ

সিকিউরিটি গার্ড জিজ্ঞেস করল,
— “স্যার, আপনি কার সাথে এসেছেন?”

আর্য বলল,
— “বন্ধু নীল।”

গার্ড ভ্রু কুঁচকে বলল,
— “এখানে নীল নামে কেউ ঢোকেনি।”

আর্য ফোন বের করল।
কন্টাক্ট লিস্টে নীল নেই।
চ্যাট নেই।
ছবি নেই।

শুধু একটা অ্যালবাম—
“B3”

কিন্তু খুললেই স্ক্রিন কালো।

🛗 লিফট আবার ডাকছে

আর্য বাড়ি ফিরল।
কিন্তু রাত হলেই সে শুনতে পেল—

ডিং…

ঠিক যেন লিফটের আওয়াজ।

স্বপ্নে সে দেখল—
নীল দাঁড়িয়ে আছে অন্ধকারে।
বলছে,
— “তুই পুরোপুরি ফিরে আসিসনি।”

আর্য ঘামতে ঘামতে জেগে উঠল।

ঘড়িতে সময়—
৩:০০ AM

ঠিক সেই সময়, তার ফোনে একটা নোটিফিকেশন এল।

Unknown Floor: B3 is active

🕰️ সময়ে ফাটল

পরদিন আর্য বুঝতে পারল—
সময় তার সাথে ঠিক আচরণ করছে না।

সে সকালে নাশতা করে বেরোয়,
কিন্তু ঘড়ি দেখলে এখনো সকাল ৮টা।

একই মুহূর্ত বারবার ফিরছে।

দেয়ালের আয়নায় তাকিয়ে সে দেখে—
নিজের মুখটা একটু… আলাদা।

বয়স্ক।
ক্লান্ত।

ঠিক যেন সেই লোকটার মতো,
যাকে সে B3-এ দেখেছিল।

📼 ভিডিও যা থাকা উচিত ছিল না

রাতে সে ফোনে একটা ভিডিও খুঁজে পায়।
ভিডিওটা সে নিজেই রেকর্ড করেছে—
কিন্তু তার কোনো স্মৃতি নেই।

ভিডিওতে আর্য বলছে—

“যদি এটা দেখছিস, তার মানে নীল এখনো আটকে আছে।
B3 বন্ধ হয়নি।
শুধু দরজাটা লুকিয়ে আছে।”

ভিডিও শেষ হওয়ার আগে,
পেছনে শোনা যায়—

ডিং…

🚪 নতুন বোতাম

পরদিন আর্য আবার রায় মেগামলে যায়।
লিফটে ওঠে।

বোতামগুলো আগের মতোই।
কিন্তু এবার—

B3 নয়।

একটা নতুন বোতাম।

👉 B4

হালকা জ্বলছে।
ঠিক যেন অপেক্ষা করছে।

আর্য হাত বাড়ায়।

কারণ সে বুঝে গেছে—
কেউ সময় থেকে ফিরে এলে,
কিছু না কিছু রেখে আসতেই হয়।

আর B3…
এখন তার পালা চাইছে।


পার্ট–৩ (শেষ)


⏳ যে লিফট নামলে সময় বদলে যায়

যে কেউ পুরোপুরি ফিরে আসে না

লিফটের ভেতর আর্য একা দাঁড়িয়ে।

বোতামগুলো নিস্তেজ।
শুধু একটা জ্বলছে।

👉 B4

কোনো লেখা নেই।
কোনো সতর্কতা নেই।

ঠিক যেমন বিপদ থাকে—
নিঃশব্দ।

আর্য বোতামটা চাপে।

ডিং।

🛗 নামা নয়, খুলে যাওয়া

লিফট নামছে না।
মনে হচ্ছে চারপাশটাই খুলে যাচ্ছে।

দেয়ালগুলো ধীরে ধীরে স্বচ্ছ হয়ে ওঠে।
আর্য দেখে—একই লিফটের ভেতরে অগণিত আর্য দাঁড়িয়ে আছে।

কেউ তরুণ।
কেউ বয়স্ক।
কেউ আহত।
কেউ… হাসছে।

একজন সামনে এগিয়ে আসে।

— “স্বাগতম, আর্য।”

— “তুমি কে?”

লোকটা শান্ত গলায় বলে,
— “যে তুই হতে পারতিস।
আর যে নীল হয়েছিল।”

🧠 B4-এর সত্য

B3 ছিল সময়ের ফাঁক
আর B4 হলো সময়ের হিসাব

যে কেউ B3 থেকে ফিরলে,
সে নিজের জায়গায় ফেরে না।

সে কপি হয়ে যায়।

লোকটা বলে,
— “প্রতিটা সিদ্ধান্তে একটা ভার্সন থেকে যায়।
আমরা সবাই… অসম্পূর্ণ ফেরা মানুষ।”

আর্য কেঁপে ওঠে।
— “তাহলে নীল?”

চারপাশে আলো বদলায়।
একটা দৃশ্য ভেসে ওঠে।

নীল দাঁড়িয়ে আছে লিফটের ভেতর।
একাই।

কিন্তু সে বেঁচে নেই।
সে লিফটটাই চালাচ্ছে

— “কেউ তো থাকতে হতো,”
লোকটা বলে।
— “যে অন্যদের ফিরতে দেবে।”

⏱️ শেষ সিদ্ধান্ত

হঠাৎ স্পিকার বাজে—

“একটি স্থান খালি হচ্ছে।”

মানে—
কেউ বেরোতে পারবে।

শর্ত একটাই।

👉 একজনকে পুরোপুরি মুছে যেতে হবে।

সব ভার্সন আর্যের দিকে তাকায়।

একজন বলে,
— “তুই গেলে আমরা থাকব।”
আরেকজন বলে,
— “আমরা গেলে তুই থাকবি।”

আর্য চোখ বন্ধ করে।

তার মনে পড়ে—
নীলের হাসি।
শেষ কথাটা।

“গল্পটা তোকে লিখতেই হবে।”

আর্য সামনে এগিয়ে যায়।

— “আমিই থাকব।”

🚪 সকালবেলা

রায় মেগামলের লিফট স্বাভাবিক।
B4 নেই।
B3 নেই।

আর্য নামের কেউ নেই।

কিন্তু এক সপ্তাহ পর,
একটা নতুন ব্লগ ভাইরাল হয়—

“যে লিফট নামলে সময় বদলে যায়”

লেখক: Unknown

আর পোস্টের শেষে একটা লাইন—

“আপনি যদি এই গল্প পড়ে থাকেন,
তাহলে ধরে নিন—
আমি আমার কাজটা ঠিকই করেছি।”

🛗 শেষ দৃশ্য

রাত ১১:৫৮।

একটা লিফট থামে।

ভেতরে দাঁড়ানো এক যুবক মৃদু হেসে বলে—

“ডিং… কোন ফ্লোর?”


🖤 শেষ কথা

এই গল্প শেষ হলেও,
লিফটটা এখনো নামছে।

কারণ সময় বদলায়—
যখন কেউ সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে।


🌱 গল্পের শিক্ষা (Moral)

সব অ্যাডভেঞ্চার জেতার জন্য নয়—কিছু অ্যাডভেঞ্চার মানুষকে বদলে দেওয়ার জন্য।

আমরা প্রায়ই কৌতূহলের বশে এমন সিদ্ধান্ত নিই, যার ফল শুধু আমাদের নয়—আমাদের কাছের মানুষদেরও প্রভাবিত করে।
“যে লিফট নামলে সময় বদলে যায়” গল্পটি শেখায়—

  • সব দরজা খোলার জন্য নয়
  • সময়ের সাথে খেললে কিছু না কিছু হারাতে হয়
  • 🤝 বন্ধুত্ব আর দায়িত্ব কখনও কখনও আত্মত্যাগ চায়
  • 🧠 ফিরে আসা মানেই আগের মতো থাকা নয়

সবচেয়ে বড় কথা—
👉 নিজের সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে পারাই আসল সাহস।


আরও রোমাঞ্চকর নতুন গল্প পড়তে এখানে ক্লিক করুন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top